এদেশের প্রতিটি মিডিয়া কি গাজা খায় ? নিচের ভিডিও টি দেখুন তাহলে বঝতে পারবেন কেন বলছি !!!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালউদ্দিন টুকুর ওপর সোমবার সশস্ত্র হামলাকারীরা ছাত্রলীগ কর্মী। বিভিন্ন টেলিভিশনের ভিডিও ফুটেজ ও পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে ক্যাম্পাসে তাদের পরিচয় ছিল সবার মুখে মুখে। তাদের অনেককে গতকালও ছাত্রলীগের মিছিল-সমাবেশে দেখা গেছে।
বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল প্রচারিত ও পত্রিকায় প্রকাশিত স্থিরচিত্রে দেখা গেছে, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের ছাত্রলীগ ক্যাডার বাপ্পী (দর্শন, চতুর্থবর্ষ) প্রথমে ছাত্রদল সভাপতিকে বিশেষ ধরনের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। বাপ্পী মুহসীন হলের ১১১ নম্বর কক্ষে থাকে। তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে। তার বাবা বেলায়েত হোসেন থানা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক। চ্যানেল আই’র খবরে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, লাল জ্যাকেট পরা বাপ্পী ছাত্রলীগের একটি জঙ্গি মিছিল থেকে বিশেষ ধরনের একটি লাঠি ঘোরাতে ঘোরাতে ছুটে গিয়ে কলাভবনের পেছনের বারান্দায় প্রক্টর ও পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রদল সভাপতি টুকুর মাথায় প্রথম আঘাত করে। এতে তিনি ঢলে পড়েন। বাপ্পীকে পরেও ছাত্রলীগের মিছিলে দেখা গেছে।
আমার দেশ ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় লিড ছবিতে দেখা গেছে, পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যে খুব কাছ থেকে রেঞ্চ দিয়ে এক যুবক ছাত্রদল সভাপতির মাথায় আঘাত করার পর রক্তাক্ত রেঞ্চ দিয়ে দ্বিতীয় দফা আঘাতের সময় কেউ একজন বাধা দিচ্ছে। রেঞ্চ দিয়ে আঘাতকারী যুবকটি হচ্ছে বরকত। সংগীত দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র বরকত জহুরুল হক হলের ছাত্রলীগ কর্মী। সে হলের ২৩ নম্বর কক্ষে থাকে। তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানায়। যুগান্তরের ছবিতে দেখা যায় বরকতের পাশেই আরেক যুবক চাপাতি হাতে ছাত্রদল সভাপতির মাথায় আঘাত করছে। সে এফ রহমান হলের ছাত্রলীগ ক্যাডার ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি টিপুর সমর্থক সাকিব। সাকিব লোকপ্রশাসন বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র। হলের ২১০ নম্বর কক্ষে থাকে। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলায়।
এছাড়াও বিভিন্ন ছবিতে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী ছাত্রদল সভাপতির ওপর হামলা করতে দেখো গেছে কবি জসীমউদ্দীন হলের ছাত্রলীগ ক্যাডার মেহেদী (তৃতীয়বর্ষ), একই হলের বাশার (ইতিহাস বিভাগ), জহুরুল হক হলের আতিক, মুহসীন হলের রাহাত (দ্বিতীয়বর্ষ) ও সাকেরকে (বিশ্বধর্মতত্ত্ব, দ্বিতীয়বর্ষ)। সাকের মুহসীন হলের ৪০২ নম্বর কক্ষে থাকে। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়ায়। ঘটনার পেছনে নেতৃত্বে ছিলেন মুহসীন হলের ছাত্রলীগ সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সূর্যসেন হলের সভাপতি সাঈদ মজুমদার, জহুরুল হক হলের সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবীর রাহাত।
ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের গোলাগুলি ও সশস্ত্র মহড়া : গত সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টুকু-আলিমের নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ভিসি অফিসের দিকে যেতে চাইলে মলচত্বরে পদবঞ্চিতদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া হয়। এ সময় পদবঞ্চিতরা ক্যাম্পাসে কয়েক রাউন্ড গুলি ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। ছাত্রদলের বাধার মুখে টিকতে না পেরে বিদ্রোহী খোকন ও শিপনসহ সমর্থকরা পিছু হটে। বিদ্রোহীরা ধাওয়া খেয়ে পিছু হটে ছাত্রলীগের আশ্রয়ে মুহসীন হল মাঠে জড়ো হয়। কবি জসীম হল, সূর্যসেন হল, মুহসীন হল, জহুরুল হক হল, এফ রহমান হলের ছাত্রলীগ কর্মীরাও এসে ছাত্রদলের পদবঞ্চিতদের সঙ্গে যোগ দেয়। পরে ছাত্রলীগের সূর্যসেন ও কবি জসীমউদদীন হলের জুনিয়র কর্মীরা অত্যাধুনিক নাইন এমএম পিস্তল, লাঠি, রড, চাপাতি, রামদা, হকিস্টিক, কিরিচসহ মহড়া দেয়। বেশ কিছু গুলি ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। টিভি ফুটেজ ও স্টিল ক্যামেরার ছবিতে দেখা গেছে, নাইন এমএম পিস্তল হাতে বহিরাগত ছাত্রলীগ ক্যাডার পরশ, রামদা হাতে সূর্যসেন হলের মাস্টার্সের ছাত্র কামরুল, চাপাতি হাতে সূর্যসেন হলের সুমন (আইইআর, গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ), রামদা হাতে জহুরুল হক হলের এক ছাত্রলীগ কর্মী ক্যাম্পাসে মহড়া দিচ্ছে।






